
বৃহস্পতিবার ● ২০ মার্চ ২০২৫
প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাউজানে ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
রাউজানে ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :: চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি’র ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ দুই গ্রুপের ১৩ জন আহত হয়েছে।
এসময় পাঁচটি মোটরসাইকেল আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার ১৯ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় উপজেলার নোয়াজিষপুরের ইউসুফ খাঁর দিঘি এবং বিকাল ৪ টায় একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মদন চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উভয় গ্রুপের প্রায় ১৩ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুইজন হলেন গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী মো. কাইয়ুম (২৮) এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী যুবদল নেতা গাজী মোরশেদ। গুলিবিদ্ধ ও কুপিয়ে আহত হওয়া দুজনই বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সন্ধ্যা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা চিকদাইর ইউনিয়নের ইফতার মাহফিল হতে ফেরার পথে বিএনপির চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা তাদের পথ আটকিয়ে গুলিবর্ষণ ও কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। এই সময় অনেকে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে পেলে। অন্যদিকে বিকেলে নোয়াজিষপুর মদন চৌধুরী জামে মসজিদ মাঠে গোলাম আকবর খন্দকারের আনুসারী কর্তৃক নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন বিএনপি অংগসংগঠনে যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ইফতার মাহফিল চলাকালে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা ২০-২৫টি মোটর সাইকেল যোগে এসে হামলা চালায়। এতে ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে যায়। এই সময় মো. কাইয়ুম নামের এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়।
গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফোরকান সিকাদর বলেন, আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বিকাল ৪ টার দিকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী নেতৃত্বে অস্ত্রসহ ২০-২৫ মোটরসাইকেল যোগে এসে হামলা চালায়। আমদের যুবদল নেতা কাইয়ুম কপালে গুলি করে। আমাদের ৮-১০ নেতাকর্মী বেধড়ক মারধর করে। সন্ধ্যায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের কারা হামলা করেছে তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উত্তর জেলা যুবদল নেতা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা ইফতার মাহফিল হতে ফেরার পথে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমাদের মোটরসাইকেল বহরে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। মূহুমূহু গুলিবর্ষণ করে এবং কুপিয়ে আমাদের ৪-৫ জনকে মারাত্মক আহত করে। এদের মধ্যে যুবদল নেতা মোরশেদ চুরি মেরে ভূড়ি বের করে দেয়। আমাদের পাঁচটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং একটি অটোরিকশা ভাংচুর করে। আমরা এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা রাউজান থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. নাছির উদ্দীন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখি ৫ টি মোটরসাইকেল জ্বলছে। ঘটনাস্থলে কেউ ছিল না। এরপূর্বে বিকাল ৪ টার দিকে ইফতার মাহফিল হামলার ঘটনা ঘটে। রাউজান থানা ওসি মনিরুল ইসলাম ভুইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।