
মঙ্গলবার ● ২৫ মার্চ ২০২৫
প্রথম পাতা » এগিয়ে যাও বাংলাদেশ » ফটিকছড়ির কৃতি সন্তান নজরুল ইসলামের (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পদক লাভ
ফটিকছড়ির কৃতি সন্তান নজরুল ইসলামের (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পদক লাভ
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি :: জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৫’ লাভ করেছেন ফটিকছড়ির কৃতি সন্তান অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর)।
মঙ্গলবার ২৫ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক এই পুরস্কার তুলে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর)। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর) পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তাঁর মেয়ে ছাদআপ ছাদ সিদ্দকি। এসময় তিনি তাঁর পিতাকে স্বাধীনতা পদক ভূষিক করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামছাড়াও এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন-সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)। গত ১১ মার্চ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নারায়নহাট ইউনিয়নে। ১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিচারক বাবার কর্মস্থল ঝিনাইদহে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের পৈত্রিক বাড়ির বংশধর মাস্টার জসিম উদ্দিন বলেন,অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের এ অর্জন আমাদের জন্য গর্বের। তবে আমরা আরো আগে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের জীবদ্দশায় এ অর্জন আশা করেছিলাম। এ বিজ্ঞানীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতায়। সেখান থেকে ফিরে কিছুদিন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান জামাল। সেখানে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা পৃথিবীর প্রথম সারির পদার্থবিজ্ঞানীদের সঙ্গে সমস্বরে উচ্চারিত হয় জামাল নজরুলের নাম। বলা হয়ে থাকে, মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানে জামাল নজরুলের মতো অবদান এ দেশের আর কোনো বিজ্ঞানীর নেই। এই কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ই বদলে দিয়েছে জামাল নজরুলের জীবনকে। বিশ্বখ্যাত এই বিদ্যাপীঠে গণিত ট্রাইপজের তিন বছরের কোর্স দুই বছরে শেষ করেন তিনি। গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডির পাশাপাশি লাভ করেন ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি। বলা বাহুল্য, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন বিজ্ঞানী কেবল এই ডিগ্রি অর্জনের সম্মান লাভ করেছেন। কেমব্রিজে নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিশ্বখ্যাত পদার্থ ও মাহাকাশবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং,শিক্ষক ফ্রিম্যান ডাইসন, পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান, ভারতের সুব্রহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর, পাকিস্তানের আবদুস সালাম, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অমিয় বাগচী, সহপাঠী জয়ন্ত নারলিকার, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম মার্লিস তাঁরা সবাই ছিলেন জামাল নজরুলের ঘনিষ্ঠজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী। ১৯৮৩ সালে জামাল নজরুলের বিখ্যাত গবেষণা নিবন্ধ “দ্য আল্টিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভার্স” প্রকাশিত হলে কেমব্রিজ-পাড়ায় রীতিমতো সাড়া পড়ে যায়। এই গবেষণাকে বলা হয় আইনস্টাইন-পরবর্তী ধ্রুপদী ধারার সবচেয়ে সফল গবেষণার একটি। কেমব্রিজে জামাল নজরুলের যখন জয় জয়কার, ঠিক তখনই এক মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। বিদেশে তিন দশকের বিলাসী জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন প্রখ্যাত এ বিজ্ঞানী। ১৯৮৪ থেকে ২০১৩ সাল, জীবনের শেষ ২৯ বছর দেশের মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞান সাধনা আর অধ্যাপনায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার হাতেই গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট। ১৯৮৭ সালে এই বিভাগ উদ্বোধনে বাংলাদেশে এসেছিলেন নজরুলের প্রিয়জন পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুস সালাম। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণের পরও ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে জামাল নজরুল আমৃত্যু সংযুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ চট্টগ্রামে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।