
শনিবার ● ২৯ মার্চ ২০২৫
প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাঙামাটিতে সুপ্রদীপ চাকমার কুশপুত্তলিকা পোড়ালো ছাত্র-জনতা
রাঙামাটিতে সুপ্রদীপ চাকমার কুশপুত্তলিকা পোড়ালো ছাত্র-জনতা
আহমদ বিলাল খান :: পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি তিন পার্বত্য জেলায় খাদ্যশস্য ও প্রকল্প বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।
একই সঙ্গে বৈষম্যমূলক এই বরাদ্দ বাতিল করা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রাঙামাটির বৈষম্যের শিকার বাঙালি সহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-জনতা।
শনিবার ২৯ মার্চ দুপুরে রাঙামাটি পৌর চত্বর থেকে সচেতন ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বনরূপায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়, এটি সকল জাতিগোষ্ঠীর আবাসভূমি। এখানে বরাদ্দের নামে কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ ছাত্র সমাজ মেনে নেবে না। এই বৈষম্যমূলক বাজেট অবিলম্বে সংশোধন করা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, পার্বত্য ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শওকত হোসেন প্রমুখ।
সম্প্রতি পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে তিন পার্বত্য জেলায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে এই বরাদ্দ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, পক্ষপাতদুষ্ট এবং এক বিশেষ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীভূত। সেখানে বাঙালিসহ অন্যান্য সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করে শুধু চাকমা সম্প্রদায়কে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই পার্বত্য উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে আবার তাকে পার্বত্য উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে তিনি তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি প্রকল্প থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে পাহাড়ি-বাঙালি সকল জাতিগোষ্ঠীকে জনসংখ্যা অনুপাতে সমানভাবে বরাদ্দের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বৈষম্যমূলক এই বরাদ্দ বাতিল করা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই উপদেষ্টাকে অবাঞ্ছিত ও প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশে। পরে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
এসময় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, রাঙামাটি জেলা এনসিপির নেতৃবৃন্দ, বড়ুয়া নেতৃবৃন্দ, মারমা নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।